জুলাই আন্দোলনে তারুণ্যের অবদান

পৃথিবীতে যত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়েছে, তা তারুণ্যের হাত ধরেই হয়েছে। ফরাসি বিপ্লব থেকে শুরু করে ১৮৪৮ সালের বোহেমিয়ান বিপ্লব, চীনের তিয়েনআনমেন স্কোয়ার আন্দোলন, ১৯৯৯ সালের তেহরান আন্দোলন, এমনকি ২০১০-১১ সালের তিউনিসিয়ার জেসমিন বিপ্লবে তারুণ্যের সাহসিক ভূমিকার কথা আমাদের অনেকেরই জানা। পৃথিবীতে যত মহৎ কর্ম সাধিত হয়েছে, তার প্রতিটির পেছনে অসামান্য অবদান রয়েছে তরুণদের। যুগে যুগে তরুণরাই অধিকার আদায়ে মাঠে নেমেছেন। হয় তারা জয়ী হয়ে ফিরেছেন, নয়তো ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থেকেছেন।

বাংলাদেশে স্বাধীনতা-পূর্ব এবং স্বাধীনতা-উত্তরকালেও রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সব আন্দোলনেই সম্মুখসারিতে থেকে তরুণরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। রুণ প্রজন্মের তারুণ্যের দুর্বিনীত শক্তি যে অসাধ্য সাধন করতে পারে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা আবারও তা প্রমাণ করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে নিন্দনীয়, ঘৃণিত ও নিষ্ঠুর স্বৈরাচারকে ক্ষমতার মসনদ থেকে উৎখাত করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের তরুণরা। অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্তভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে এক দফা দাবিতে রূপান্তর করে স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তিমূলকেই উপড়ে ফেলেছে তরুণ সমাজ।

যে প্রজন্মকে আমরা বাস্তব নয়, বরং ভার্চুয়াল জগতের মানুষ ভেবেছি; ভার্চুয়াল জগতে নিমগ্ন থাকে বলে যাদের অপবাদ দিয়েছি, তারা সমাজ ও রাজনীতিবিমুখ বলে ভুল বুঝেছি, সেই প্রজন্মের সন্তানরাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে।

জুলাই আন্দোলনে তরুণদের এই বিপুল অংশগ্রহণ শুধু স্বৈরতন্ত্রের পতনের পথ প্রশস্ত করেনি, বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে—যেখানে গণতন্ত্র মানে কেবল নির্বাচন নয়, বরং অংশগ্রহণ, প্রতিবাদ এবং জবাবদিহি। রাষ্ট্র যখন নিপীড়নের পথ বেছে নেয়, তখন তরুণদের কণ্ঠই হয়ে ওঠে জনগণের কণ্ঠ। তারা ভয় পায় না, পিছু হটে না—বরং ইতিহাসকে সামনে টেনে আনে।

এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল তরুণদের হাতে নয়—তারা এখন থেকেই নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত

পরিবর্তনের অংশ হোন

এখনই নিবন্ধন করুন। আপনার আওয়াজ তুলুন। ভবিষ্যতের জ্বালানি হিসেবে স্ফুলিঙ্গ হোন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার কর